শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
৩৫০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ইয়াবা ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব ১০ কেরানীগঞ্জে কদমতলী আল্লাহ দান নামে একটি রিক্সার গ্যারেজে থামছে না জুয়া, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি। মাদারীপুরের হত্যা মামলার আসামী আল আমিন (২৮) ঢাকার কেরাণীগঞ্জে র‌্যাব-১০ কর্তৃক গ্রেফতার। র‌্যাব-১০ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা কেরানীগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় দেশ জুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভ ঢাকা জার্ণালিস্ট কাউন্সিলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ব্যবসার আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা। আলোর ছোঁয়া মানব কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে কেরানীগঞ্জে গরিব-দুঃস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। আজ শিল্পী রাকা পপির শুভ জন্মদিন। কেরানীগঞ্জে সাবেক তাঁতী লীগের সভাপতি মোল্লা ফারুক বাহিনীর হাতে জীবন গেলো ব্যবসায়িক মোঃ জুবায়ের। ধর্ষণ মামলার আসামী সজীব (৩৫) র‌্যাব-১০ কর্তৃক ঢাকার কেরাণীগঞ্জে গ্রেফতার।

আ’লীগ ও বিএনপির তৃণমূল কোন্দলে আটকে গেছে পুনর্গঠন

আপাতত কমিটি গঠনের কাজ স্থগিত রেখে কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ ক্ষমতাসীনদের * নির্বাচনের আগেই পুনর্গঠনের কাজ শেষ করতে চায় বিএনপি

দলীয় কোন্দল, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে আটকে আছে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমূল পুনর্গঠন। বারবার ঘোষণা দিয়েও এ প্রক্রিয়া শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে উভয় দলই। অনেক জেলায় সম্মেলন করা সম্ভব হলেও সংঘর্ষের আশঙ্কায় কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

আবার কোথাও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় দুই গ্রুপ। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করতে হয়েছে। আবার ঘোষিত ওই কমিটি নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ করার অভিযোগ উঠেছে দুই দলেই। এতে দলে গতি না এসে উল্টো সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা।দুই দলের অসংখ্য জেলা কমিটি এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও পুনর্গঠনে তেমন তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করা না হলে আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৃণমূলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর। তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ দুই দলের নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। নানা কারণেই বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হয় না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোন্দল আরও বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কোনো স্তরেই কমিটি না করার পক্ষে ক্ষমতাসীনরা। অন্যদিকে তৃণমূলে গতি আনতে পুনর্গঠনের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর  বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির পুনর্গঠন কাজ এগিয়ে চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন এবং আন্দোলনের জন্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বাকি জেলার পুনর্গঠন দ্রুতই শেষ করা হবে।

তৃণমূলের দ্বন্দ্ব নিরসনকে ‘অনেক কঠিন কাজ’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বুধবার  বলেন, তারপরও এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তৃণমূল পুনর্গঠন ও যত দ্রুত সম্ভব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে।

আওয়ামী লীগ : বারবার উদ্যোগ নিয়েও তৃণমূল পুনর্গঠন কাজে ফলপ্রসূ হতে পারছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মূলে এমপি, মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতকেই দায়ী করছে দলটি। আর তৃণমূল নেতারা বলছেন, কেন্দ্র কঠোর নির্দেশনা দিলে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা প্রভাবশালীরা ঝরে পড়বে। তৃণমূল অগোছাল রেখে আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া দুষ্কর হবে বলেও জানান তারা।

আওয়ামী লীগের ৭৩টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। আপাতত কমিটি গঠনের কাজ স্থগিত রেখে কোন্দলপূর্ণ জেলা-উপজেলা নেতাদের সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামীকাল শুক্রবার থেকে সফরে যাওয়া ১৫টি সাংগঠনিক টিম এসব জেলা-উপজেলাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে বলে শোনা যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের ৮ বিভাগের কমপক্ষে ৩২টি জেলা ও শতাধিক উপজেলায় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব চরমে। জয়পুরহাট, নাটোর, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, রংপুর, হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, নড়াইল, চট্টগ্রাম অন্যতম। বিগত দুই বছরে সারা দেশ সফর করে আসা কেন্দ্রীয় নেতারা এ তালিকা করেছেন। এসব জেলা-উপজেলায় একাধিকবার সম্মেলনের ডাক দিলেও তা সম্পন্ন করতে পারেনি দলটি। অনেক জায়গায় অসম্পূর্ণ রেখে তড়িঘড়ি করে কমিটি দেয়া হয়েছে। সেসব স্থানে দ্রোহের আগুন বেড়ে গেছে। নতুন-পুরাতনদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম সংকট। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর বিভাগে এ দ্বন্দ্ব বেশি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রায় ৩০ জেলায় দলীয় কোন্দলে গত ৭ মাসে কমপক্ষে ২৪ জনের প্রাণ গেছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়ার পরও তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না।

কমিটি গঠন ও প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটাতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এমপি, সিটি মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এমনকি মেম্বাররাও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন।

২০১৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের পর থেকে তৃণমূল গোছানোর কাজ শুরু করেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তখন থেকেই সম্মেলন, কর্মিসভা শুরু করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে গোলযোগপূর্ণ ধরে ধরে তিনি সফর করেছেন অনেক জেলা। কোন্দলে জড়ানো নেতাদের নিয়ে একান্তে বৈঠকও করেন তিনি। কিন্তু অধিক কোন্দলপূর্ণ জেলাগুলোকে বাগে আনতে পারেননি ওবায়দুল কাদের। কোনো কোনো সম্মেলনে গিয়ে কোন্দলের কারণে ফিরেও আসতে হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের। দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে অনেক জেলা-উপজেলায় সম্মেলন হলেও হয়নি কোনো কমিটি। পুরাতন কমিটিই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকা। বিভিন্ন সম্মেলনে যাওয়া আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা-উপজেলাগুলোতে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত এত বেশি যে, বেশকিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন তৃণমূল নেতারা। তাৎক্ষণিক কমিটি ঘোষিত হলে দ্বন্দ্ব আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেও অনেক জায়গায় কমিটি ঘোষণা হয়নি।

তৃণমূল পুনর্গঠনে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফিরে আসার পর বিষয়টি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে কঠোর বার্তা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরও তৃণমূল গুছিয়ে আনতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহে ১৩ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে কমিটিই ঘোষণা করতে পারেনি দলটি। সম্মেলন হলেও কমিটি হয়নি ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগেরও। প্রবীণদের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা কমিটি পুনর্গঠনে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান ময়মনসিংহ মহানগরের মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক টিটু। বুধবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রে প্রস্তাবিত কমিটিতে বিতর্কিত, অপরিচিতদের স্থান দেয়া হয়েছে। বঞ্চিতরা সে বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। সে কারণে কমিটি ঝুলে থাকতে পারে।

দুই বছর পার হলেও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দুই সদস্যের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবিরের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এ কমিটি ঝুলে আছে। তারা কেন্দ্রে আলাদা আলাদা কমিটি জমা দেয়ায় কমিটি চূড়ান্ত করতে বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানান পদবঞ্চিত নেতারা।

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির বুধবার  বলেন, ২০ বছর সম্মেলন না হওয়ায় পদবিহীন নেতাকর্মীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এটা সামাল দিতে কমিটি গঠনে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পূর্বে সভাপতি-সেক্রেটারি পৃথক কমিটি দিলেও সম্প্রতি আমরা একটি অভিন্ন কমিটি দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের কাছে জমা দিয়েছি। আশা করি দলের আগামী কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাব।’

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থা হ-য-ব-র-ল। এখানে ১৭ ইউনিয়নের প্রতিটিতে আছে দলটির একাধিক কমিটি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রের কোনো সিদ্ধান্তই মানতে চান না স্থানীয় এমপি এইচএন আশিকুর রহমান ও তার ছেলে রাশেক রহমান। ৩০ জুলাই মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্র থেকে সেটি স্থগিতের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এ নির্দেশ উপেক্ষা করে ওই দিন সভা করেন এমপির ছেলে রাশেক রহমান।

এছাড়া কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ১৬ নভেম্বর রাজধানীর আজিমপুরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের একপক্ষের অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করে অপরপক্ষ। এ সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মারামারি হয় এ কমিটি গঠন নিয়ে। নগরের থানা, ওয়ার্ড কমিটিতে মেয়র সাঈদ খোকনের নেতাকর্মীদের না রাখায় সেক্রেটারি মুরাদ গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আর ঢাকা উত্তরে স্বজনপ্রীতি করে বিতর্কিত ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের নিয়ে কমিটি করার অভিযোগে সেটি স্থগিত করা হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের কমিটি এখনও পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে শনিবার ঢাকায় ডেকে জয়পুরহাট, নাটোর ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠকে সবাইকে দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলা হয়। এর আগে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, নীলফামারী, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া জেলার নেতাদের ঢাকায় ঢেকে দ্বন্দ্ব নিরসনে কঠোর বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এ সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু এরপরও এলাকায় তাদের সমঝোতার কোনো লক্ষণই ফুটে ওঠেনি। কারণ এলাকায় গিয়ে ফের দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপিরা। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের সেচিত্র আবার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কোন কমিটি পুনর্গঠনের কাজে হাত দেবে। কারণ এতে দলীয় কোন্দল আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা দলটির নীতিনির্ধারকদের।

বিএনপি : বিগত ‘ওয়ান-ইলেভেন’র পর সাংগঠনিকভাবে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। তৃণমূল পুনর্গঠনের বারবার সময় সীমা বেঁধে দেয়া হয়। দ্রুতই পুনর্গঠন কাজ শেষ হবে- এমন ঘোষণা একাধিকবার দেয়া হলেও বাস্তবে তা হয়নি। সর্বশেষ ২০১৫ সালে আগস্টে তৃণমূল পুনর্গঠনে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। ওই বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের সব কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে জেলায় জেলায় চিঠি পাঠানো হয়। এরপর আড়াই বছর কেটে গেলেও মাঠপর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ এখনও শেষ করতে পারেনি দলটি। বিএনপির ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৫১টি জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি জেলায় আংশিক কমিটি দেয়া হয়েছে। আরও পাঁচ-ছয়টি জেলার কমিটি গুছিয়ে আনা হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ জেলা কোন্দল, গ্রপিং, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে পুনর্গঠন কাজ অনিশ্চিত হয়ে যায়। মূল দল ছাড়া ছাত্রদল, কৃষক দলসহ কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনের পদক্ষেপ অনেক আগে থেকে নেয়া হলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, দলীয় কৌশলের কারণে পুনর্গঠনে কিছুটা ধমকে যায়। এছাড়া প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপেও কমিটি গঠনে বিলম্ব হয়। অনেক জায়গায় এখনও সম্ভব হচ্ছে না। কারণ সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ প্রভাবশালী নেতারা নিজে অথবা তাদের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে মরিয়া। আবার কোথাও কোথাও কোথাও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনীহার কারণেও আটকে যায় জেলা কমিটি পুনর্গঠন।

বেশ কয়েকটি জেলার নতুন কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ করা হলেও তা ঘোষণা করা হচ্ছে না। নতুন কমিটি ঘোষণা দিলে কোন্দলের শঙ্কা রয়েছে। এ মুহূর্তে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক তা চাচ্ছে না হাইকমান্ড। ফলে চেয়ারপারসনের মামলার বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগে এসব কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা কম।

জানা গেছে, কোন্দল আর প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে বেশ কয়েকটি জেলায় কমিটি গঠনে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিজ জেলা ফেনীতেই কমিটি করা সম্ভব হচ্ছে না। ৮ বছর আগে সেখানে কমিটি হয়। বর্তমানে ফেনীতে অন্তত তিন ভাগে বিভক্ত বিএনপি। এক ভাগের নেতৃত্বে দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ভিপি জয়নাল আবেদীন, আরেক গ্রুপ সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু এবং অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন জেলা যুবদল সভাপতি গাজী হাবিবুল বাহার মানিক। এ জেলার কমিটি নিয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিকবার বৈঠকে বসলেও সমাধানে আসতে পারছে না। চেয়ারপারসনের নিজ জেলা হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বেশ সতর্ক।

দল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন ও আন্দোলন সামনে রেখে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে জেলা কমিটি পুনর্গঠন অনেক দূর এগিয়েছে। বাকিগুলোও দ্রুত সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় পুনর্গঠন কিছুটা ধীরগতিতে চলেছে সত্যি। তবে সরকারের মামলা-হামলা ও কাউন্সিলে বাধা দেয়াসহ নানা কারণেও সময়মতো শেষ করা সম্ভব হয়নি।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান কাজেরই একটি অংশ। কমিটি গঠনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও তা বছরজুড়েই চলে। বিএনপির মতো জনপ্রিয় দলের কমিটিতে জায়গা পেতে প্রতিযোগিতা থাকবেই। একে কোন্দল বা দ্বন্দ্ব বলা ঠিক হবে না।

ময়মনসিংহকে সাংগঠনিকভাবে দুই ভাগে (দক্ষিণ ও উত্তরে) বিভক্ত করা হয়। কিন্তু দিন যতই গড়াতে থাকে, ততই দুর্বল হয়ে পড়ে দল। বর্তমান উত্তর-দক্ষিণ দুই শাখার অবস্থাই করুণ। ময়মনসিংহ উত্তরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই অন্তত ২০ বছর। সাংগঠনিক এ জেলার সাতটি উপজেলাতেই নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে দুটি করে কমিটি। জেলার আহ্বায়ক খুররম খান চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরেক গ্রুপের। একই অবস্থা ময়মনসিংহ দক্ষিণেও। ৮ বছর আগে কমিটি হয়েছিল বিএনপির সাংগঠনিক এ জেলায়। নতুন কমিটি হচ্ছে হবে বলে নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ছে প্রকাশ্যেই।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, কোন্দলের কারণে আটকে আছে জেলা কমিটির পুনর্গঠন। কমিটি কবে হবে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাই ভালো জানেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুত কমিটি পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। না হলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত © সংবাদ সবসময় - ২০২৩
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Marshal Host