শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
কেরানীগঞ্জে কদমতলী আল্লাহ দান নামে একটি রিক্সার গ্যারেজে থামছে না জুয়া, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি।
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে ‘আল্লাহ দান’ রিক্সার গ্যারেজে অবাধ জুয়া ও মাদকের স্পটে সাংবাদিকের উপর হামলা।
কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকার ‘আল্লাহ দান’ নামে পরিচিত একটি রিক্সার গ্যারেজে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জুয়া খেলা ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং পারিবারিক অশান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘটনার অনুসন্ধানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। যা নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কার্যকলাপ চললেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জুয়ার আসর ও মাদকের আড্ডা
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, কদমতলী গোলচত্বর এলাকার ‘আল্লাহ দান’ রিক্সার গ্যারেজটি মূলত একটি জুয়ার আসরে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মোঃ কাঞ্চন মিয়া (৫০), মোঃ কুদ্দুস (৪৫), নান্নু মিয়া (৫৫) সহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিতভাবে এই অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
জানানো হয়, রাত হলেই গ্যারেজে জমে ওঠে জুয়ার আসর। এলাকার সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রথমে খেলায় আকৃষ্ট করা হয়, তারপর একপর্যায়ে তাদের সর্বস্বান্ত করে দেওয়া হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমার ভাই জুয়ায় আসক্ত হয়ে সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব। এই জুয়ার আসর বন্ধ না হলে আরও অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।”
সাংবাদিকদের উপর হামলা
গত ১লা এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটায় দৈনিক রূপবাণী পত্রিকার সাংবাদিক ইমরান হোসেন ইমু ও তার সঙ্গীয় রিপোর্টার আবু কালাম আজাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গ্যারেজটিতে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, উল্লেখিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে ১০-১২ জন জুয়া খেলছে। তখন সাংবাদিকরা মোবাইলে লাইভ সম্প্রচার শুরু করলে বিবাদীরা তাদের কাজে বাধা দেয়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ইমরান হোসেন বলেন, “আমি আমার ফেসবুক পেজে লাইভ করছিলাম, তখন তারা আমাদের উপর চড়াও হয়। প্রথমে গালিগালাজ করে, এরপর অকথ্য ভাষায় হুমকি দিতে থাকে। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।”
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর হামলা চালায়। কাঞ্চন মিয়া লোহার বাটল দিয়ে ইমরান হোসেনের ঘাড়ে এবং গলায় আঘাত করে, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। কুদ্দুস নামের আরেক ব্যক্তি চাকু দিয়ে তার পেটে আঘাত করেন। এ সময় তাদের সাথে থাকা স্বর্ণের চেইন এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও আতঙ্ক
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “প্রশাসন কেন চুপ করে আছে? এই চক্রকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।”
এক বাসিন্দা জানান, “এখানে জুয়া আর মাদকের কারণে আমাদের সন্তানরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সমাজের প্রতি আহ্বান
কেরানীগঞ্জের এই জুয়ার আসর বন্ধ করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে এলাকাবাসীকে একজোট হয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এদিকে, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তারা বলছেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের উপর হামলা মানে সত্যের কণ্ঠরোধ করা।”
সাধারণ মানুষের চাওয়া, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই অপরাধীদের গ্রেফতার করবে এবং জুয়ার আসর বন্ধ করে এলাকাবাসীকে শান্তি ফিরিয়ে দেবে।