শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
ঢাকার জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে (২০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। একই অভিযোগে পলাতক আরও দুজন কে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কোন্ডা ইউনিয়নের পানগাঁও বটতলা এলাকার মাসুদ ফরাজীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম ওরফে সিয়াম (২০) অপর আরেক জন হলেন শম্ভুনাথ সরকারের ছেলে জীত সরকার (১৯)।
এ ঘটনায় পলাতক দুইজন একই এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে মোঃ লিমন (১৮) ও সেলিম মিয়ার ছেলে মোঃ ইয়াসিন (১৮)।
শনিবার (৮ মার্চ) রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ঋষিপাড়া নয়াবাড়ী এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারী কে ডেকে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। রোববার (৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
জানাগেছে, এক বছর আগে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়াদ হোসেন নামের এক মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করে। বর্তমানে ওই নারী প্রায় সাড়ে চার মাসের অন্তঃস্বত্তা। এ অবস্থায় ১৫ দিন আগে তার স্বামী রিয়াদ ভাড়া বাসায় তাকে একা রেখে অন্যত্র চলে যায়। একপর্যায়ে তার স্বামী রিয়াদ তার মুঠোফোন বন্ধ করে ওই নারীর সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন,স্বামীর কোন খোঁজ না পেয়ে ওই নারী তার বাবার বাড়ি চাঁদপুরে ফিরে যান। মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করায় পরিবারের সদস্যরা ওই নারীকে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে মায়ের সাথে অভিমান করে তিনি গত শুক্রবার সকালে চাঁদপুর থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং রাজধানীর একটি মাজারে রাতযাপন করেন এবং গত শনিবার সকালে সে চীন মৈত্রী বুড়িগঙ্গা প্রথম (পোস্তাগোলা) সেতু পার হয়ে হাসনাবাদ সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এসে ঘোরাফেরা করতে থাকে, এসময় সে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিল। রাত আটটার দিকে ওই এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশাচালক সিয়াম ও জীত তাকে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা কর দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিয়ামের অটোরিকশাযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন পাঁনগাও ঋষিপাড়া নয়াবাড়ী এলাকায় ( বুড়ির বাড়ি নামে পরিচিত) একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে নিয়া যায়।
পরবর্তীতে লিমন ও ইয়াসিন নামে আরও দুজনকে তারা ডেকে নিয়ে আসে,একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত একটা পর্যন্ত আশরাফুল ইসলাম, জীত সরকার, লিমন ওই নারীকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় ইয়াসিন জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই নারীর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আশরাফুল ও জীতকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে,এসময় তাদের সাথে থাকা লিমন ও ইয়াসিন ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন সিয়াম ও জীতকে আটক করে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই দুজনকে থানায় নিয়ে যায়,ভুক্তভোগী নারীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, রোববার ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন,তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতক থাকা আরও দুজনকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।