শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
খেয়াঘাট ঘাট বন্ধের প্রভাবে
হুমকীতে কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসা,
শামীম আহম্মেদ.
বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাট সংলগ্ন খেয়া পারাপারের তিনটি ঘাট বন্ধকরে দেয়ায় হুমকীতে রয়েছে কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসা। ঘাট বন্ধের প্রভাবে গত কয়েক দিনেই অচল হয়ে পড়েছে পূর্ব আগানগর ও কালিগঞ্জের ব্যবসা। ক্রেতার অভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে হিমসিম খাচ্ছে দোকান মালিকেরা। বিপাকে পরেছে ওইসব ঘাট ব্যবহারকারি পথচারি-ব্যবসায়ী, নৌকা মাঝিরাও। বিআইডাবিøউটিএ’র নির্দেশিত বিকল্প ঘাট ব্যবহারে নানা সমস্যায় হুমকীর মুখে দাড়িয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃৎ তৈরী পোশাকের এই পাইকারি বাজার। বিআইডাবিøউটিএ’র বেধে দেয়া সময় ও তাদের নির্দেশিত ঘাট ব্যবহারে না রাজি প্রকাশ করেছেন গার্মেন্টস পল্লীর ব্যবসায়ী নেতারা । পূর্বের জায়গায় ঘাট ফিরিয়ে দেয়া এখন তাদের প্রাণের দাবি।
জানাযায়,কেরাণীগঞ্জ থেকে নৌকাযোগে রাজধানীতে পারাপারের অত্যান্ত জনবহুল তিনিটি খেয়াঘাট হচ্ছে তেলঘাট,সিমসনঘাট ও ওয়াইজঘাট। এসকল ঘাট দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষক, শিক্ষার্থী,অভিভাবক,ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণসহ প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লোক নৌকাযোগে কেরাণীগঞ্জ থেকে রাজধানীতে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু নৌ-নিরাপত্তার দাবি তুলে গত সেপ্টেম্বর এ খেয়াঘাট তিনটি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য পন্টুণ স্থাপন করে দেয় বিআইডাবিøউটিএ’র কর্তৃপক্ষ। এতে করে ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয় কেরাণীগঞ্জ থেকে রাজধাণীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক,ব্যবসায়ী,নৌকা মাঝিসহ হাজার হাজার জনতার। যার ফলে ঘাট বন্ধের প্রতিবাদে টানা তিনদিন বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে পূর্ব আগানগরের ওইসব ঘাট ব্যবহারকারি পথচারি-ব্যবসায়ী ও নৌকা মাঝিরা। সমস্যা সমাধানের জন্য বিআইডাবিøউটিএ’র কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা বসেন কেরাণীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ।
আলোচনায় ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবী গুলো পর্যায়ক্রমে বিআইডাবিøউটির কর্তৃপক্ষ বাস্তরায়ন করবেন বলে একমত পোষণ করেন। আপাতত তারা বীণাস্মৃতি নৌকা ঘাটকে বিকল্প খেয়া ঘাট হিসেবে ব্যবহারের দিক নির্দেশনা দেন । বীণাস্মৃতি ঘাটটি বিকল্প ঘাট হিসেবে ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের ইতি মধ্যে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ ঘাট ব্যবহারে নারাজ ব্যাবসায়ীসহ এলাকার জনগন। ফলে মুখ থুবরে পরেছে পূর্ব আগানগর ও কালিগঞ্জের ব্যবসা।
কেরাণীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মো.মুসলিম ঢালী বলেন, এ ঘাট তিনটি বন্ধ হলে এখানকার গার্মেন্টস ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাবে । তাই এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনায় রেখে এবং ঐতিহ্য বাহী এসব নৌকা ঘাটকে বাচিয়ে রেখে এলাকার ঐতিহ্যকে বাচিয়ে রাখার আহবান তার। এদিকে একই সমতির সভাপতি হাজী মো.স্বাধীন শেখ বলেন কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লী¬টি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম তৈরি পোশাকের মার্কেট। নৌকা যোগে এখানকার বহু পাইকার তাদের মালামাল পার করে থাকে। খেয়া ঘাট বন্ধ হয়ে গেলে এ পল্লী¬টি যে মুখ থুবরে পড়বে তার নিদর্শন গত কয়েক দিনেই আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি। তিনি বলেন যে ঘাট দিয়ে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু হয়েছে সে সব ঘাটের সাথে আমাদের ব্যবসায়ীদের কোন সম্পৃক্ততা নাই। তাছাড়া ওয়াটার বাসে শুধু যাত্রীই পারাপার হতে পারে। মালামাল সমেত আমাদের ব্যবসায়ীরা পারাপার হতে পারবে না। তারমতে গার্মেন্ট শিল্পটি বাঁচিয়ে রাখতে হলে এসকল ঘাট বন্ধ করা যাবেনা। লঞ্চ মালিকদের গাফলতি ও অপরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন স্থানে লঞ্চ নোঙ্গর করার কারনে নৌ দূর্ঘটনা ঘটে। পরিকল্পিত ভাবে টারমিনালে লঞ্চ নোঙ্গর করলে ও ছেড়ে গেলে কোন দূর্ঘটনা ঘটবেনা। #