বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ব্যবসার আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল কমার্শিয়াল এলাকায় ট্রাভেল ও ট্যুরিজম ব্যবসার আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণার জাল ফেলে বসেছেন এক ভয়ানক ধূর্ত ব্যবসায়ী। ইথার ফারিয়েল হামিদ, যিনি নিজেকে কখনো ট্রাভেল ও ট্যুরিজম ব্যবসায়ী, কখনো পাইলট, কখনো বিমানবালা পরিচয় দিয়ে থাকেন। তার বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগ করে লাভ দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
এমনই এক অভিজগের প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত সিআর-মামলা নং ২১৫/২০২৪ এর বিবরণ থেকে জানা যায়, সিফাত জিয়া, পিতা মরহুম জিয়াউল হুদা, মুগদাপারা, ঢাকা নিবাসী, সৌদি এয়ারলাইন্সে কর্মরত একজন ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট অভিযোগ করেছেন, ইথার ফারিয়েল হামিদ, বিভিন্ন সময়ে প্রায় পঁচাশি লক্ষ টাকা, ব্যবসায় ইনভেস্টমেন্ট দেখিয়ে ধার নিয়েছেন। বাদী সিফাত জিয়া কর্মসূত্রে অভিযোগকারী ইথার ফারিয়েল হামিদের পূর্বপরিচিত ছিলেন।
বাদি সিফাত জিয়া বলেন, ইথার ফারিয়েল হামিদের সাথে আমি গত ১৯/১১/২০২৩ তারিখে, তার প্ররোচনায়, একটি অংশিদারি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে, ইথার ফারিয়েল হামিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফারিয়েল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস লি:, ঠিকানা: সাধারণ বীমা ভবন (৬ তলা), ২৪/২৫ দিলকুশা বা/এ, মতিঝীল, ঢাকা, এ আমি ৮৫,০০,০০০ (পঁচাশি লক্ষ) টাকা বিনিয়োগ করি। চুক্তি অনুযায়ী, আমি আমার ব্যাংক থেকে ইথার ফারিয়েল হামিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে ৫০,০০,০০০ (পঁচাশ লক্ষ) টাকা ট্রান্সফার এর মাধ্যমে বিনিয়োগ সম্পন্ন করি এবং অবশিষ্ট টাকা ক্যাশ হিসেবে প্রদান করি।
তিনিও আরো বলেন, চিকিৎসার জন্য টাকা প্রয়োজন হলে আমি যথাযথ সময় দিয়ে ইথার ফারিয়েল হামিদকে আমার বিনিয়োগকৃত সমুদয় অর্থ পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি কালক্ষেপণ করতে থাকেন। তার বাসা এবং অফিসে বারবার ধর্না দিলে তিনি এক প্রকার গলা ধাক্কা দিয়ে আমাকে বের করে দেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি প্রথমে মুগদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১১৮১, তারিখ ২৫/৫/২০২৪) দায়ের করি। পরবর্তীতে তিনি লোক মারফত আমাকে হুমকি-ধমকি প্রদান করেন এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। অনন্যোপায় হয়ে, আমি মহামান্য সিএমএম আদালতে ১২/০৯/২০২৪ তারিখে মামলা (সিআর মামলা নং ২১৫/২০২৫), ৪২০/৪০৬/৫০৬ ধারায় দায়ের করতে বাধ্য হই। আদালতে হাজির হয়ে তিনি টাকা গ্রহণের স্বীকারোক্তি দেন এবং আমার সাথে আপোষ করার শর্তে সমুদয় অর্থ ফেরত দিবেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুইবার জমিন নেন। কিন্তু কার্যত তিনি কোন প্রকার টাকা ফেরত না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে গত ০৯/০৩/২০২৫ তারিখে সিএমএম আদালত – ২৯ ঢাকা হতে ইথার ফারিয়েল হামিদের জমিন বাতিল করে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মুগদা থানা পুলিশের সহযোগিতায় গত ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে এথার ফারিয়েল হামিদকে গ্রেপ্তার করে মহামান্য সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। যেহেতু মামলার আসামি একজন চরম প্রতারক, সেহেতু আসামির পালানোর সম্ভাবনা রয়েছে, এই বিবেচনায় সিএমএম আদালত সি/ডব্লিউ মূলে আসামী ইথার ফারিয়েল হামিদকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।